‘টিপ’ বাংলাদেশের সব থেকে বড় সঙ্কট : উজ্জ্বল


রেজা প্রকাশের সময় : বুধবার, এপ্রিল ৬, ২০২২, ৭:৪০:৪৭ PM / ২১
‘টিপ’ বাংলাদেশের সব থেকে বড় সঙ্কট : উজ্জ্বল

শনিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে উত্ত্যক্তের শিকার হন তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দার। এ ঘটনায় শেরে বাংলা নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

ওই কলেজ শিক্ষিকার অভিযোগ-রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসা থেকে হেঁটে কলেজে যাওয়ার সময় হুট করে পাশ থেকে মধ্যবয়সী, লম্বা দাড়িওয়ালা একজন ‘টিপ পরছোস কেন’ বলেই বাজে গালি দেন তাকে। মধ্যবয়সী ওই ব্যক্তির পরনে পুলিশের পোশাক। ঘটনার প্রতিবাদ জানালে একপর্যায়ে কলেজ শিক্ষিকার পায়ের ওপর দিয়ে বাইক চালিয়ে চলে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি।

এদিকে শিক্ষিকার সঙ্গে এমন অপ্রীতিকর ঘটনায় উত্তপ্ত সোশ্যাল মিডিয়া। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের শিল্পী-কুশলী কপালে টিপ লাগানো ছবি পোস্ট করে যার যার মতো করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। শিল্পীদের সম্মিলিত ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত এমন প্রতিক্রিয়া শেষ কবে এসেছে, তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল।

টিপ কাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্য ওই দিনই নির্মাতা ও সংগীতশিল্পী মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ছবি ছাড়াই প্রতিবাদ করেন। তার ভাষ্য, ‘যেকোনো ঘটনা নিয়ে অতি চর্চা করতে গিয়ে লেজে-গোবরে করা আমাদের মজ্জাগত সমস্যা। টিপকাণ্ডে জড়িত পুলিশ সদস্য কোনোভাবেই সুস্থ মানসিকতার হতে পারে না! পুলিশের উচিত বাহিনী থেকে এই অসুস্থ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, এটা পুলিশের ইমেজের জন্যই জরুরি।’

এরপর তিনি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পাঠকের জন্য স্ট্যাটাসটি প্রকাশ করা হলো।

তিনি লেখেন, ‘রাজাপাকসে সরকারকে চীনের কাছে সবকিছু বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শ্রীলঙ্কার খাদ্য বিক্রেতারা। তারা বলছে, দেশটির কাছে কিছুই নেই। দেশটিকে সবকিছু অন্য দেশ থেকে ঋণ করে কিনতে হয়। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় ফল ও সবজির দাম আকাশচুম্বী।

৩ থেকে ৪ মাস আগে প্রতি কেজি আপেল ৫০০ রুপিতে বিক্রি হতো, এখন তা প্রতি কেজি ১ হাজার রুপি। নাশপাতি আগে প্রতি কেজি ৭০০ রুপি দরে বিক্রি হতো, এখন প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ রুপি দরে বিক্রি হচ্ছে। মানুষের কাছে টাকা নেই। বাংলাদেশের সাথে মিল খুঁজে পান? ভয় করে না? মনে হয় না এমনটা হলে কোথায় যাবেন, কি খাবেন?

বর্তমানে ‘টিপ’ বাংলাদেশের সব থেকে বড় সঙ্কট। সেটা নিয়ে কিছু বল্লেই ইনসেনসিটিভ বলে গালি শুনতে হয়! কিন্তু সরকারকে যে জনমতকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য করা হলে বাধ্য হয়, সেই প্রমাণতো সাম্প্রতিক টিপ কাণ্ডে পেলেন। রীতিমত সিসি টিভি ফুটেজ খুঁজে খুঁজে অপরাধী সনাক্ত করে সাজাও দেওয়া হয়ে গেল! আমিও বিষয়টা ইতিবাচক ভাবেই দেখছি। আর তাইতো বলছি- নিজেদের অস্তিত্ব সঙ্কট নিয়ে দু-চারটে প্রতিবাদ অন্তত করেন, সংগঠিত হয়ে দ্রব্য মুল্যের উর্ধ্ধগতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। কেবল দ্রব্যমুল্য কেন, হুহু করে যে গ্যাসের দাম বাড়ছে, সেটা নিয়ে কে কথা বলবে? সিএনজি স্টেশনে রাত ১২ টা থেকে গ্যাস নেওয়ার জন্য বিকাল তিনটা থেকে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে লাইন দিয়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে, এসব দৃশ্য দেখে ভয় করে না?

বাঙ্গালী জাতির মত মানসিক ভাবে দেউলিয়া জাতি পৃথিবীর আর কোথাও নেই। এরা দ্রব্য মুল্য নিয়ে কথা বল্লে মনে করে কুলনেস কমে যাবে, এইটা আবার একটা টপিক হইল, যথেষ্ট গ্ল্যামার নাইতো বিষয়টার! ভাব খানা এমন-“আমিতো টিসিবি’র ট্রাকের পেছনে দৌড়াই না, সুপার শপ থেকে ১৭০ টাকা লিটারে তেল কিনে খাই , আমি কেন দ্রব্য মুল্য নিয়ে কথা বলে নিজেকে গরীব বলে প্রমাণ করব!

“টিপ কাণ্ড” নিয়ে আমিও নিন্দা জানাই, আমিও এর প্রতিবাদ করি-কারণ আমি প্রতিবাদযোগ্য সর্ব বিষয় নিয়েই প্রতিবাদ করি। কিন্তু কপালে টিপ পরে প্রতিবাদ করা অধিকাংশ মানুষকেই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে টু শব্দটিও করতে দেখি না। বিশেষ করে মিডিয়ার তারকা শিল্পীদেরকে কোনদিনও এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করতে দেখলাম না! মনে হয়না ইনাদের ভাত-কাপড়ের দরকার হয়! বরং দু-দিন পর যখন গণভবন থেকে ইফতার পার্টির দাওয়াতপত্র পাবে, তখন সেই দাওয়াতপত্রের ছবিতে ছবিতে সয়লাব হয়ে যাবে নিউজফিড , আর লেখা থাকবে ‘ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’।

সারা পৃথিবীতে সারা জীবন রাজনৈতিক প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার ছিলেন শিল্পী সমাজ। আমাদের দেশে সব থেকে ভীতু , আপোষকামী এবং সুবিধাবাদী হল এই শিল্পী সমাজ যে শিল্পী সমাজ একটা পুরস্কার একটু সরকারী আনুকুল্য’র লোভে সচিবালয়ে গিয়ে নতজানু হয়ে বসে থাকতে পারে , তাদেরকে নিয়ে আর কী ই বা বলব! একজন শিল্পী হিসাবে আমার রিতিমত লজ্জা হয় এটা ভেবে।

নিজে শিল্পী বলে শিল্পীদেরকে নিয়ে একটু আলাদা করে বললাম। কিন্তু সাধারণ মানুষেরও যে এসব নিয়ে আহামরি কোন বিকার আছে তা মনে হয় না। দেশে সম্ভবত দুর্ভিক্ষ লাগলে এরা মনে করবে বিপদে আছি!