চট্টগ্রামেও মিলেছে জঙ্গি আস্তানা


রেজা প্রকাশের সময় : সোমবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৫, ১২:২১:০৮ PM / ১৬৭
চট্টগ্রামেও মিলেছে জঙ্গি আস্তানা

মুক্তিরআলোটুয়েন্টিফোর.কম

25গত কয়েক মাসে জঙ্গিদের শক্তিমত্তা ও তত্পরতার যতটুকু পরিচয় পাওয়া গেছে, তাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। গত চার মাসে দেড় ডজনেরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। নামাজরত মুসল্লি, পুলিশ, বিদেশি নাগরিকসহ হতাহতের ঘটনাও কম নয়। বেশ কিছু জঙ্গি এরই মধ্যে ধরাও পড়েছে। উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র, গুলি, গ্রেনেড, বিস্ফোরকসহ প্রচুর প্রাণঘাতী সরঞ্জাম। ঢাকার মিরপুরে থাকা জঙ্গি আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড ও বিস্ফোরক উদ্ধারের দুই দিনের মাথায় শনিবার রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার একটি বাড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অত্যাধুনিক এমকে-১১ স্নাইপার রাইফেল, ২০০ রাউন্ড গুলি, দুই কেজি জেল এক্সপ্লোসিভ, ১০টি ডেটোনেটর, সেনাবাহিনীর ১২ সেট পোশাক, মেজর পদবির এক জোড়া র্যাংক ব্যাজ এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সেই বাড়িতে প্রশাসনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গোপন দলিলও পাওয়া গেছে। এসব থেকে সহজেই ধারণা করা যায়, জঙ্গিদের প্রস্তুতি খারাপ নয়।

সাধারণত জঙ্গিরা কোনো দেশে তত্পরতা চালানোর জন্য সমমনা কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়া বেছে নেয়, যা আমব্রেলা সংগঠন হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নামে-বেনামে কয়েক ডজন জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ বা হুজি এবং জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। জেএমবিসহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর গোপন সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অনেক দিনের, অর্থাৎ জামায়াত তাদের আমব্রেলা সংগঠন। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধেও। সাধারণত এসব সংগঠন তাদের অর্থ ও কর্মী সংগ্রহের উৎস হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও জঙ্গিদের অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছে। কাজেই জঙ্গিরা একটি ভালো ক্ষেত্র পেয়েছে। আবার যুদ্ধকৌশল হিসেবে প্রশাসনেও জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়। বাংলাদেশেও যে জঙ্গিদের তেমন অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তার কিছু নমুনা চট্টগ্রামের অভিযানেও মিলেছে। ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি প্রিজন ভ্যানে হামলা করে জেএমবির তিন সদস্যকে ছিনিয়ে নিয়েছিল তাদের সহযোগীরা। সেই ঘটনার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বেশ কিছু গোপন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল দেশের সব পুলিশ ইউনিটে, যা সেই ইউনিটের প্রধান ছাড়া আর কারো জানার কথা নয়। সেই নির্দেশের অনুলিপিও পাওয়া গেছে হাটহাজারীর বাড়িটিতে। এর আগেও সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, যুদ্ধাপরাধের বিচারসহ নানা কারণে বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদসহ বেশ কিছু দেশের চক্ষুঃশূলে পরিণত হয়েছে। তারা নানাভাবে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাই জঙ্গিবাদবিরোধী বিশেষ টাস্কফোর্স সৃষ্টির মাধ্যমে জঙ্গি দমনে পরিকল্পিত এবং সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খুঁজে বের করার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে।

সম্পাদনায়/সুমি/বাংলাদেশ সময় ১২.১৫ঘন্টা,২৮ডিসেম্বর ২০১